শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৪:৩০ পিএম, ২০২৬-০৯-২৪
রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে ফুটপাতে বিশ্রামরত নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পার না হতেই নিহতের পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকার সমঝোতার তথ্য প্রকাশ্যে আসায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—একজন মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় আর্থিক ক্ষতিপূরণ কি বিচার প্রক্রিয়ার বিকল্প হতে পারে?
গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ২৪ বছর বয়সী নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান। এ সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মেহেদীর বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলায়। পরিবার ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, জীবিকার তাগিদে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং ভাঙাচোরা ঘর মেরামতের স্বপ্ন নিয়েই রাজধানীতে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ঢাকায় আসার একদিনের মাথায় সড়কে প্রাণ হারাতে হয় তাকে।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন গাড়ির চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে মামলার অগ্রগতি, চালক শনাক্তকরণ এবং সিসিটিভি ফুটেজে দেখা তথ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় প্রকৃত চালক কে ছিলেন—সে প্রশ্ন নিয়েও জনমনে কৌতূহল ও বিতর্ক রয়েছে।
এরই মধ্যে আদালত প্রাঙ্গণে অভিযুক্ত কিশোরের আইনজীবী জানান, দাফন-কাফনের জন্য ১ লাখ টাকা এবং নিহতের বাবা-মায়ের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আরও ৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ মোট ৯ লাখ টাকার সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকেও আপসের বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে, যদিও টাকার পরিমাণ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা হয়নি। এই সমঝোতার খবর প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একজন শ্রমজীবী মানুষের প্রাণের মূল্য কি কেবল কয়েক লাখ টাকায় নির্ধারিত হতে পারে? আবার অন্যরা বলছেন, আর্থিক সহায়তা এবং বিচার—দুটি ভিন্ন বিষয়; ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকা উচিত।
তবে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সমঝোতার বিষয়টি তদন্তকে প্রভাবিত করবে না এবং পুলিশ তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় তদন্ত চালিয়ে যাবে। আদালতও অভিযুক্ত কিশোরকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ফৌজদারি অপরাধের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতা হলেও রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। যদি তদন্তে বেপরোয়া গাড়ি চালানো, অবহেলা বা অন্য কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকতে পারে।
মেহেদী হাসানের মৃত্যু এখন শুধু একটি সড়ক দুর্ঘটনার মামলা নয়; এটি বিচার, জবাবদিহিতা এবং আইনের সমতার প্রশ্নও সামনে এনেছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না—সেদিকেই এখন নজর দেশবাসীর।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬ - © 2026 Chomotkar TV | Developed By Biplab Uddin