শিরোনাম
চমৎকার ডেস্ক | ০৩:৫৮ পিএম, ২০২৬-১০-০১
বাংলাদেশের বাজারে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস—এলপিজির দাম। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য নির্ধারণ করেছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার না পেয়ে ভোক্তাদের অনেক ক্ষেত্রেই গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।
সর্বশেষ ১ অক্টোবরের বাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ বিইআরসির নির্ধারিত দামের তুলনায় ভোক্তাকে কোথাও কোথাও ৭১৫ থেকে ৯১৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে।
শুধু বেশি দামই নয়, বাড়তি টাকা দিতে চাইলেও কোথাও কোথাও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে ভোক্তাদের অভিযোগ রয়েছে। ফলে রান্নার জন্য এলপিজির ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর ওপর বাড়ছে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ।
কেন বাড়ছে এলপিজির দাম?
এলপিজির বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সরবরাহসংকট, আমদানি কমে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে সরবরাহ বিঘ্নের কথা উঠে এসেছে।
২৮ সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে দেশে এলপিজি আমদানি প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে নেমে এসেছে, যেখানে আগস্টে আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন। একই সময়ে প্রতি টন কার্গোর প্রিমিয়ামও বেড়েছে।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলপিজি সংগ্রহে বাড়তি ব্যয় এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ার কারণে আমদানিকারক ও পরিবেশকদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। সেই চাপের প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
তবে ভোক্তাদের প্রশ্ন—সরকার যখন একটি নির্দিষ্ট খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে, তখন সেই দামের চেয়ে শত শত টাকা বেশি দামে কেন এলপিজি বিক্রি হবে?
খুচরা বিক্রেতাদের একটি অংশের দাবি, তারা নিজেরাই নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনছেন। ফলে বিইআরসির নির্ধারিত দামে বিক্রি করলে তাঁদের লোকসান হবে।
৩০ সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদনে কয়েকজন বিক্রেতা দাবি করেন, তাঁরা ১২ কেজির সিলিন্ডার প্রায় ১ হাজার ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত দামে কিনছেন। ফলে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা দরে বিক্রি করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে, বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, অনেক কোম্পানি চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত এলপিজি সরবরাহ করতে পারছে না।
অন্যদিকে জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, দেশে এলপিজির সরবরাহে ঘাটতি নেই। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
ফলে এখন মূল প্রশ্ন—দেশে যদি সরবরাহ ঘাটতি না থাকে, তাহলে বিইআরসি নির্ধারিত ১ হাজার ৫৮৫ টাকার এলপিজি বাজারে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কেন?
সরবরাহ ব্যবস্থার কোন পর্যায়ে মূল্য বাড়ছে, কারা বাড়তি দামে বিক্রি করছে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন ভোক্তাদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
১২ কেজির একটি সিলিন্ডারে যদি ৯০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দিতে হয়, তাহলে মাসে একাধিকবার এলপিজি ব্যবহার করা পরিবারগুলোর রান্নার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে যেসব পরিবার পাইপলাইনের গ্যাসের পরিবর্তে সম্পূর্ণভাবে সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল, তাঁদের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পারিবারিক বাজেটে প্রভাব ফেলছে।
এদিকে বিইআরসি নির্ধারিত মূল্য ও বাজারদরের এত বড় ব্যবধান শুধু এলপিজির দাম নয়, বাজার তদারকি ও সরবরাহ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
চমৎকার ডেস্ক : শ্রমিক হত্যা, তেল-গ্যাসের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, দেশব্যাপী অরাজকতা, শ্রমিকশক্তির নেতাদের ওপর বর্ব...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার যুবদল কর্মী আবু ইউসুফ প্রকাশ জীবন হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত জিল্...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : আবারও বাড়ানো হয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বা রান্নার গ্যাসের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত সামিট এলএনজি টার্মিনালের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে আগামী ৪...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ককটেল ব...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : উৎসবমুখর, আনন্দঘন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনেà...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬ - © 2026 www.chomotkartv.com | Developed By Biplab Uddin